

Pregnancy
8 January 2026 আপডেট করা হয়েছে
গর্ভাবস্থার গড় সময়কাল 9 মাস ধরা হয়। একজন গর্ভবতী মায়ের প্রথম আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় শেষ মাসিক চক্র এবং অন্যান্য গর্ভধারণের বিবরণ বিবেচনা করে গর্ভবতী মায়েদের একটি নির্ধারিত তারিখ ডাক্তাররা দেন। আনুমানিক ডেলিভারি তারিখ (EDD) একজন মহিলার শেষ মাসিক (LMP) থেকে 40 সপ্তাহ/280 দিন পরে গণনা করা হয়। তাই নিয়মিতভাবে আপনার মাসিকের তারিখ ট্র্যাক রাখা অত্যাবশ্যক। অনিয়মিত পিরিয়ড হলে LMP গণনা ভুল হতে পারে এবং এর ফলে গর্ভবতী মায়ের নির্ধারিত তারিখের গণনা ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
একজন মহিলার গর্ভকালীন সময়কাল 42 সপ্তাহের বেশি অতিক্রম করলে তাকে পোস্ট-টার্ম প্রেগন্যান্সি বলা হয়। দীর্ঘস্থায়ী গর্ভাবস্থা / পোস্টডেট নামেও পরিচিত, এই ধরনের অবস্থা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ এবং গর্ভবতী মহিলার ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ। এই অবস্থাটি সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা, জরায়ুর আকার পরিমাপ, ভ্রূণের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ এবং গর্ভের অভ্যন্তরে অ্যামনিয়োটিক তরলের অবস্থা দেখার মাধ্যমে ডাক্তাররা নির্ণয় করেন।
যদিও গর্ভাবস্থা কেন 42 সপ্তাহের বেশি বাড়তে পারে তার সঠিক কারণ অজানা, তবে সম্ভাব্য পোস্ট-টার্ম প্রেগন্যান্সির জন্য দায়ী বিভিন্ন কারণ রয়েছে।
● সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল শেষ মাসিকের তারিখ সঠিক নয়। এটি এমন মহিলাদের মধ্যে হয় যারা অনিয়মিত মাসিকের সমস্যায় ভোগেন কিংবা মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে তাদের পিরিয়ডের তারিখগুলি মিস করেন।
● পূর্বের পোস্ট টার্ম প্রেগন্যান্সি, অর্থাৎ, যখন একজন মা এর আগে একই রকম গর্ভধারণ করেছেন, সেটিও এই অবস্থার একটি কারণ হতে পারে।
● জিনগত কারণ যেমন গর্ভবতী মা, নিজে যখন পোস্ট-টার্ম প্রেগন্যান্সির ফলে জন্মেছিলেন; তার যমজ বোন যদি মা হওয়ার সময় এই ধরনের গর্ভাবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন তার কারণে এই দীর্ঘ গর্ভাবস্থা হতে পারে।
● প্রাইমিপ্যারিটি, অর্থাৎ যেখানে একজন মহিলা প্রথমবার জন্ম দিচ্ছেন তা পোস্ট টার্ম প্রেগন্যান্সিতে প্রভাব ফেলেছে।
● গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে বর্ধিত গর্ভাবস্থায় অস্বাভাবিক BMI একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু পরিবর্তনযোগ্য কারণ। একজন স্থূল মহিলার পোস্ট-টার্ম প্রেগন্যান্সির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, যেখানে কম BMI থাকা মহিলার অকাল গর্ভধারণ বা প্রি-টার্ম প্রেগন্যান্সির সম্ভাবনা থাকে। সচেতন খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গর্ভাবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
● পোস্ট-টার্ম প্রেগন্যান্সি কখনও-কখনও একটি পুরুষ ভ্রূণের ইঙ্গিত দেয়।
পোস্ট-টার্ম প্রেগন্যান্সির লক্ষণ প্রায় নেই বললেই চলে। এটি সাধারণত রোগ নির্ণয়ের পরে জানা যায়। কিন্তু গর্ভের ভিতরে থাকাকালীন পোস্ট-টার্ম শিশুর উপর কিছু প্রভাব দেখা যায়।
● দীর্ঘ সময় ধরে গর্ভে থাকার কারণে শিশুর শুষ্ক ত্বক হতে পারে।
● লম্বা নখ এবং অতিরিক্ত চুলের বৃদ্ধি হতে পারে।
● লম্বা হাত-পা থাকার কারণে শিশুটিকে অস্বাভাবিকভাবে শীর্ণদেখাতে পারে। এটি প্ল্যাসেন্টার অনুপযুক্ত কার্যকারিতার জন্য হতে পারে (ইউটেরোপ্ল্যাসেন্টাল ইনসাফিশিয়েন্সি)।
● মেকোনিয়ামের দাগের কারণে শিশুর হাত ও নখগুলি হলুদ বা সবুজ দেখাতে পারে।
নবজাতকের মধ্যে পোস্ট টার্ম প্রেগন্যান্সির ঝুঁকি গুরুতর হতে পারে। তাদের মধ্যে কিছু হল:
নবজাতকের মৃত্যু: গর্ভাবস্থার উল্লিখিত সময়ের পরে মৃত সন্তান জন্মানোর সম্ভাবনা বেশি। যদিও তুলনামূলকভাবে কম, তবুও প্রসবের ক্ষেত্রে নবজাতকের অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করা উচিত।
ভ্রূণের অপরিপক্কতা: পোস্ট ম্যাচুরিটি এমন একটি অবস্থা যেখানে জরায়ুর ভিতরে অপর্যাপ্ত পুষ্টির কারণে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরে শিশুর বৃদ্ধি সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এই শিশুদের চেহারা অন্যরকম হয়।
শরীরের আকারের ভিন্নতা: কিছু শিশুর জন্ম হয় বড় আকারের (ম্যাক্রোসোমিয়া নামক একটি অবস্থা) যেখানে শিশুর ওজন 5000 গ্রামের বেশি হতে পারে। এটি প্রসবকালীন মায়ের জন্য বিপদের পাশাপাশি শিশুর জন্মের সময় আঘাতের কারণও হতে পারে।
হাইপোগ্লাইসেমিয়া: এই অবস্থায় রক্তে শর্করার কম মাত্রা হয়। শিশুর রক্তে শর্করার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে নবজাতকের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়।
নিঃশ্বাসের মাধ্যেম মেকোনিয়াম নেওয়া: মেকোনিয়াম হল প্রথম মল যা শিশুর শরীর থেকে বেরোয়। পোস্ট টার্ম প্রসবে, এই পদার্থটি অ্যামনিওটিক তরলে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং নিঃশ্বাসের মাধ্যেমে এটি শিশুর ভেতরে চলে যেতে পারে, যার প্রভাব মারাত্মক হয়।
অবস্থাটা মায়ের জন্য যতটা কঠিন ততটাই ভ্রূণের জন্য। দীর্ঘ প্রসবযন্ত্রণা এই ধরনের গর্ভাবস্থার সাথে যুক্ত একটি সাধারণ সমস্যা। যেহেতু ভ্রূণের আকার বড় হতে পারে, তাই সেফালোপেলভিক অসামঞ্জস্যের ঝুঁকি রয়েছে (যেখানে শিশুর যোনিপথ দিয়ে আসতে অসুবিধা হয় কারণ শিশুর মাথা বড় হয় বা মায়ের শ্রোণী ছোট হয়) এবং কাঁধের ডাইস্টোসিয়া (যেখানে ভ্রূণের কাঁধ বার্থ ক্যানালে আটকে যায়)। এই ধরনের ক্ষেত্রে, চিকিৎসকরা জন্মদান প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য ভ্যাকুয়াম বা ফোরসেপ ব্যবহার করতে পারেন। কখনও-কখনও, আরও গুরুতর ক্ষেত্রে, ডাক্তাররা মা এবং শিশু উভয়ের জীবন বাঁচাতে সিজারিয়ান ডেলিভারির পথ বেছে নিতে পারেন। অন্যান্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে জরায়ু ও যোনির পার্শ্ববর্তী অঙ্গে সংক্রমণ বা ক্ষত এবং রক্ত ক্ষয়।
গর্ভাবস্থার প্রথম সপ্তাহ থেকে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা হল পোস্ট-টার্ম প্রেগন্যান্সি সামলানোর সর্বোত্তম উপায়। এটি প্রসব এবং নবজাতকের যত্নের সঙ্গে জড়িত যথেষ্ট ঝুঁকি কমাতে পারে। একবার মায়ের পোস্ট-টার্ম ধরা পড়লে, মা এবং শিশু নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য কয়েকটি পরীক্ষার সুপারিশ করা হয়।
একটি বায়োফিজিক্যাল প্রোফাইল (গর্ভাবস্থায় করা একটি পরীক্ষা) ভ্রূণের গতিবিধি, ভ্রূণের হৃদস্পন্দনের ফ্রিকোয়েন্সি যা ননস্ট্রেস টেস্টিং নামেও পরিচিত, এবং জরায়ুতে অ্যামনিওটিক তরলের পরিমাণ নিরীক্ষণের জন্য করা হয়। কখনও-কখনও অ্যামনিওটিক তরলের মাত্রা কমে যেতে পারে যার ফলে অলিগোহাইড্রামনিওস নামক অবস্থার সৃষ্টি হয়। উল্লিখিত পরীক্ষায় কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন ভ্রূণের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই ধরনের ক্ষেত্রে, ডাক্তাররা প্রসব করানোর চেষ্টা করবেন। প্রসবের সময় মায়েদের প্রতিকূল সার্ভিক্স থাকলে, পোস্ট-টার্ম প্রেগন্যান্সি চিকিৎসার মধ্যে মেমব্রেন সুইপিং, ড্রিপসের মাধ্যমে অক্সিটোসিন ইনজেকশন দেওয়া এবং সার্ভিক্স পাকাতে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন দেওয়ার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এগুলি ডাইলেশন দ্রুত ঘটাতে পারে এবং পোস্ট-টার্ম ডেলিভারির জটিলতাগুলি হ্রাস করতে সহায়তা করে।
● পোস্ট-টার্ম প্রেগন্যান্সি হল যখন একজন মায়ের গর্ভকালীন বয়স 42 সপ্তাহের বেশি হয়।
● LMP-র ভুল গণনা, জিনগত কারণ, স্থূলতা এবং হরমোনজনিত কারণগুলি পোস্ট-টার্মের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে।
● পোস্ট-টার্ম প্রেগন্যান্সির ঝুঁকি মা এবং ভ্রূণ উভয়ের মধ্যেই দেখা যায়।
● জটিলতাগুলি সামলানোর জন্য ঘন-ঘন আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা এবং ক্রমাগত ভ্রূণ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
● নির্ধারিত তারিখের পরে প্রসব করানোর চেষ্টা করা পোস্ট-টার্ম প্রেগন্যান্সির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
Post Term Pregnancy: Symptoms, Causes, Complications, Risks, Management & Treatment in Bengali, What is Post-term Pregnancy in Bengali, Causes of Post-term Pregnancy in Bengali, Post-Term Pregnancy Signs and Symptoms in Bengali, Risks involved in a Post Term Pregnancy in Bengali, Post-Term Pregnancy Complications in the Mother in Bengali, Post Term Pregnancy Management and Treatment in Bengali
Yes
No

Written by
Jayashree Roy
Get baby's diet chart, and growth tips











10টি কার্যকরী ব্যায়াম যা প্রসবকে দ্রুত করতে ও নিরাপদে ডেলিভারি হতে সাহায্য করে (10 Effective Exercises for Easy Labor & Safe Delivery in Bengali)

গর্ভাবস্থায় প্রচুর ঘুমানো কি স্বাভাবিক? | Is It Normal To Sleep A Lot During Pregnancy in Bengali

দুধ ছাড়ান

গর্ভাবস্থা পেট খারাপ: কারণ, চিকিৎসা এবং ঘরোয়া প্রতিকার

স্বাভাবিক আর সুরক্ষিত ভ্যাজাইনাল প্রসবের জন্য টিপস (Tips For A Normal and Safe Vaginal Birth in Bengali)

টি ট্রি ফেস টোনার ব্যবহার করার 5 টি সেরা কারণ