


Rituals & Customs
5 April 2023 আপডেট করা হয়েছে
হিন্দুদের মধ্যে একটা খুব বড় প্রথা হলো গর্ভধানা। এই গর্ভধানার অস্তিত্ব এখনকার দিনে খুব একটা পাওয়া যায় না; তবুও এটা মনে রাখতে হবে যে, এই সংস্কারটি বাঙালি হিন্দু লোকাচারে একসময় বহুল প্রচলিত ছিল। গর্ভধানা অনেক সময় একটি সংস্কার হিসেবেও পরিগণিত হয়। এটি গীতা পাঠের একটি নৈতিক শিক্ষা যা এখনো ইসকনের মন্দিরে পালিত হয় যদিও আগের মতন প্রচলিত অর্থে ব্যবহৃত হয় না। ইসকন মন্দিরের একজন গুরু একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, যেসব প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির দ্বারা এই পুরো অনুষ্ঠানটি পালন করা হয় তাকে বস্তুত গর্ভধানা বলা হয়। তিনি পুরো প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী যখন স্বামী এবং স্ত্রী দুজনেই সন্তানের জন্য উৎসাহ বোধ করেন তখন তারা হরে কৃষ্ণ হরে রাম গানটি গেয়ে থাকেন দিনে ৫ বার এবং মনে করেন এটি তাদের উদ্দেশ্যকে সফল করবে। স্ত্রী সারাদিন উপোস থাকেন কিন্তু স্বামী প্রসাদ খেতে পারেন। এই নিয়ম বা গর্ভধান সংস্কার টি কেবলমাত্র রাতেই পালিত হতে পারে এবং দিনে এটি না করাই ভালো। সুদ্ধাচারে শরীরও মনের সমস্ত রকম শুদ্ধতা বজায় রেখে এই নিয়মটি করা যায়। সন্তান লাভের জন্য প্রকৃতপক্ষে এই নিয়মটির মাধ্যমে ভগবানের উদ্দেশ্যে নিজেকে নিবেদিত করা হয় আর তাই জন্যই শুদ্ধাচার বা স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র ধারণ স্বামী এবং স্ত্রী এর জন্য খুবই জরুরী। তাদের অবশ্যই শুদ্ধ ভক্ত এ পরিণত হতে হবে এই মন্ত্রোচ্চারণ করার আগে।
তিনি এর উদ্দেশ্যটি ও ব্যক্ত করেছেন। তার মতে বিবাহের প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে সন্তান লাভ এবং সেই জন্য গর্ভধারণ অনুষ্ঠানটি প্রকৃত অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে পুত্র সন্তান লাভ এই গর্ভধান অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে বাবা এবং মাকে নরক যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে একটি মেয়ে সন্তানের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয় তখন তিনি পুরোটাই ভগবানের ইচ্ছের উপরে ছেড়ে দেন যদিও বলেন যে লিঙ্গ কখনোই সন্তান লাভের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেতে পারে না বরং গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সন্তান লাভ। তিনি এই প্রসঙ্গে বিভিন্ন উদাহরণ এবং গল্পেরও অবতারণা করেন। তিনি একজন খুব মনোযোগী ভক্তের কথা এই প্রসঙ্গে বলেন। যার নাম ছিল বিত্তাসুর এবং পরবর্তীকালে তিনি কৃষ্ণভক্তে পরিণত হন। তার কথা অনুযায়ী একজন শিশুর অবশ্যই কৃষ্ণ ভক্ত হওয়া উচিত তার বাবা মায়ের সঙ্গে ভালো জীবন যাপন করার জন্য। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন যে এখনকার দিনে বৈদিক নিয়ম কানুন পালন করা হয় না আর তাই জন্য গর্ভধানের মতন গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু সংস্কার আস্তে আস্তে লুপ্ত হচ্ছে, যার ফলেই সমাজের বিভিন্ন অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে। তার মতে গর্ভধান অনুষ্ঠানটি ছাড়া যে শিশু জন্মায় সে কখনোই সমাজের পক্ষে উপযোগী হয়ে উঠতে পারেনা বা তার সমাজে কোন যোগদান থাকে না তাই বাবা-মায়ের অবশ্যই উচিত বৈদিক নিয়ম 'জগতের মঙ্গল' বা নিজের মঙ্গলের জন্য এই গর্ভধান অনুষ্ঠানটিকে পালন করা
তিনি বলেন এই অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে মানুষ অন্যান্য জীবদের থেকে আলাদা। মানুষের যেহেতু সংস্কার আছে এবং সংস্কৃতি ও আছে তাই গর্ভধান অনুষ্ঠানটি পালন করা হয় কিন্তু পশুদের বা জীবজন্তুদের ক্ষেত্রে যেহেতু এ ধরনের কোন সংস্কার নেই তাই এরকম কোন সংস্কৃতি ও আশা করা যায় না। তার বক্তব্যে একথাও পরিষ্কার যে গর্ভধান অনুষ্ঠানটি শুধু যে সন্তান লাভের সাহায্য করে তাই নয় বরং পুত্র সন্তান লাভেও সাহায্য করে। পুত্র সন্তান লাভের জন্য স্ত্রীকে স্বামীর ডানদিকে বসতে হয়। এতদসত্বেও এই অনুষ্ঠানটি আজকের যুগে অচল কারণ এ অনুষ্ঠান অনেকাংশেই পুত্র সন্তানকে গুরুত্ব দিয়েছে আর আজকের যুগে এই ধরনের বৈষম্য কখনোই আশা করা যায় না। কিন্তু এ সঙ্গে একথাও বলা প্রয়োজন যে, কোন নিয়মকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল করার বদলে সেই নিয়মের মধ্যে কিছু পরিবর্তন করে সেই নিয়ম বা সংস্কার কে জীবন্ত করলে সংস্কৃতি বজায় থাকে।
কোন সংস্কার বা সংস্কৃতি ছাড়া একটি জাতি বেশিদিন প্রাধান্য পেতে পারে না। তাই হিন্দু লোকাচারে এ ধরনের বিভিন্ন সংস্কার লোকাচার বা আচার বর্তমান, যা আজকের যুগের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া আবশ্যিক।
Yes
No

Written by
Atreyee Mukherjee
Get baby's diet chart, and growth tips







সি-সেকশনের কত সময় পর আপনার যৌন মিলন করা উচিত?

পাইলোনাইডাল সিস্ট কী? এর কারণ, চিকিৎসা ও উপসর্গ

গর্ভাবস্থায় কেন আপনার সাবুদানা খাওয়া উচিত?

নতুন মায়েদের জন্য টাইম ম্যানেজমেন্ট

শিশুদের ভাল ঘুমের অভ্যাস কীভাবে করাবেন?

একটি শিশুর কি উপুড় হয়ে ঘুমানো উচিত?