


Diet & Nutrition
2 January 2026 আপডেট করা হয়েছে
গর্ভবতী হলে এবং সঙ্গত কারণে গর্ভবতী মায়েরা এই সময় খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে হয়তো কয়েক ডজন হাস্যরসাত্মক কৌতুক শুনেছেন। বেশিরভাগ গর্ভবতী মহিলারা গর্ভাবস্থায় তাদের আচার খাওয়ার ইচ্ছার ব্যপারে জানান। আচার হল সবচেয়ে জনপ্রিয় ইচ্ছাগুলির মধ্যে একটি কারণ গর্ভবতী মহিলারা এটির নোনতা স্বাদ এবং কুড়মুড়ে টেক্সচার উপভোগ করে থাকেন। তাহলে, গর্ভাবস্থায় আচার খাওয়া ভালো না খারাপ? এই নিবন্ধটি এই প্রশ্নের উপরেই আলোকপাত করবে।
অনেক গর্ভবতী মহিলাই ভাবেন - "আমরা কি গর্ভাবস্থায় আচার খেতে পারি"। কিন্তু এই আকাঙ্ক্ষার পেছনের কী কারণ সেই সম্পর্কে হয়তো খুব কম মানুষই ভেবেছেন। এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে গর্ভাবস্থায় আচার খাওয়ার ইচ্ছা সম্পর্কে একটি সাধারণ স্টেরিওটাইপ লক্ষ্য করা যায়। গর্ভাবস্থায় এই ইচ্ছা কেউ কেউ শিশুর লিঙ্গের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ব্যবহার করে, তবে এই তত্ত্বের কোনও বৈজ্ঞানিক সমর্থন নেই। নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্য মহিলাদের আচার খাওয়ার ইচ্ছা হতে পারে:
গন্ধ এবং স্বাদের উপলব্ধিগুলি ইস্ট্রোজেন বা অন্য কোনও হরমোনের পরিবর্তন দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে, গর্ভাবস্থায়, একজন মহিলার খাবারের স্বাদ আগের চেয়ে আলাদা মনে হয়। গর্ভবতী মহিলাদের আচারের মতো নির্দিষ্ট কিছু খাবারের আকাঙ্ক্ষা জাগতে পারে কারণ এই খাবারগুলি তাদের স্বাদ বা গন্ধের বর্ধিত উপলব্ধিকে পূরণ করতে পারে।
গর্ভাবস্থায় একজন মহিলা মাঝে মাঝে মানসিক চাপ অনুভব করতে পারেন যা তার আচারের মতো কিছু খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বাড়িয়ে দিতে পারে।
যদি গর্ভবতী মহিলারা নিজেদেরকে জিজ্ঞাসা করেন - "আমি কি গর্ভাবস্থায় আচার খেতে পারি?" উত্তরটি হবে হ্যাঁ। আচারের পুষ্টিগুণ খুব বেশি নেই। আচারে খুব কম প্রোটিন এবং ফ্যাট, এবং কোলেস্টেরলও খুব কম আছে। আয়রন এবং লবণ দুটি পুষ্টি উপাদান যা আচার থেকে পাওয়া যায়। এছাড়াও, এটি থেকে কিছুটা ক্যালসিয়াম, ফাইবার এবং ভিটামিন সি পাওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন আচারে আলাদা-আলাদা পরিমাণে সোডিয়াম, কোলেস্টেরল এবং ক্যালোরি থাকতে পারে। তাই, প্রোডাক্ট লেবেলিং-এ থাকা পুষ্টি সম্পর্কিত তথ্য পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও আচারে বিশেষ খনিজ লবণ এবং ভিটামিন থাকে না, তবে খাবারের সাথে আচার খেলে সেই খাবারের প্রোবায়োটিক মান বাড়িয়ে তুলতে পারে।
গবেষণায় নিম্নলিখিত কারণগুলি গর্ভাবস্থায় আচার খাওয়ার ইচ্ছা ব্যাখ্যা করে-
যদিও এই বিষয়ে খুব বেশি গবেষণা নেই, তবে গর্ভাবস্থায় দ্রুত হরমোনগুলির পরিবর্তনের জন্য এই ইচ্ছাগুলি হতে পারে বলে মনে করা হয়।
তবে, প্রথম ত্রৈমাসিকে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়, যার ফলে খুব ঘন ঘন মর্নিং সিকনেস এবং বমি হয়। একজন গর্ভবতী মহিলার ইন্দ্রিয়ের উপলব্ধি, বিশেষ করে তার স্বাদ এবং গন্ধের অনুভূতিগুলি বিশেষভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।
একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে গর্ভাবস্থায় রক্তের পরিমাণ বাড়ার সাথে-সাথে লবণের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। তবে, গর্ভাবস্থায় আচার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ইঙ্গিত করে যে একজনের মধ্যে সোডিয়ামের ঘাটতি রয়েছে। ফলে, কিছু তত্ত্ব অনুযায়ী, খাদ্যের প্রতি এই বিশেষ আকাঙ্ক্ষার কারণ হল ওই শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ লবণগুলির ঘাটতি।
গর্ভাবস্থায় আচার খাওয়ার ফলে পরিমিত পরিমাণে নিম্নলিখিত সুফলগুলি পাওয়া যায়-
শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট প্রয়োজন, যেমন সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো খনিজ লবণ। গর্ভাবস্থায়, বেড়ে ওঠা ভ্রূণের চাহিদা মেটাতে আরও বেশি ইলেক্ট্রোলাইটের প্রয়োজন হয়। আচারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে লবণ এবং পটাশিয়াম থাকে, তাই এটি পরিমিত পরিমাণে খেলে এই চাহিদা মিটতে পারে।
আচার হজমে সাহায্য করতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা হলেও বাড়ায় সাহায্য করে। আচারে অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। তাই, আচার খাওয়ার ফলে পরিপাকতন্ত্রে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পেতে পারে।
আচারের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। আচারের সবজি বা ফলের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি সংরক্ষিত থাকে কারণ সেগুলিকে রান্না করা হয় না। ফলে, এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি আপনার শরীরকে ফ্রি র্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।
আমলকির মতো বিভিন্ন ফল ও সবজি থেকে তৈরি তাজা আচার খেলে শরীর অত্যাবশ্যক ভিটামিনগুলির পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং পটাসিয়ামের মতো খনিজ লবনগুলিও পেয়ে থাকে।
প্রায় সমস্তরকম আচারেই প্রচুর লবণ থাকে, যা গর্ভাবস্থায় গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে, সাথে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ায়।
এছাড়াও, ভারতে প্রস্তুত বেশিরভাগ আচারে অত্যধিক পরিমাণে তেল থাকে, যা গর্ভাবস্থায় শরীরে কোলেস্টেরল এবং ফ্যাটের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। কৃত্রিম সংরক্ষকযুক্ত আচার বা যেগুলি অত্যন্ত ঝাল সেগুলি গর্ভাবস্থায় গ্যাসের কারণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় আচার খেতে অত্যন্ত ভাল লাগতে পারে। তবে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে,
1. হাইড্রেটেড থাকা।
2. গর্ভবতী মহিলারা গ্যাস্ট্রাইটিস প্রবণ হলে আচার এড়িয়ে চলা।
3. অম্বল প্রতিরোধ করতে চাইলে আচার এড়িয়ে চলা।
4. অধিক মাত্রায় সংরক্ষকযুক্ত আচার না খাওয়া।
5. অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি রোধ করতে মিষ্টিবিহীন আচার খাওয়া।
মাঝে মাঝে ইচ্ছে হলে আচার খাওয়া ঠিক আছে, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে এটি না খাওয়াই ভাল। গর্ভাবস্থায় পরিমিতভাবে আচার খাওয়ার বেশ কিছু উপকার থাকলেও, অত্যধিক মাত্রায় এটি খেলে স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
Reference
1. Orloff NC, Hormes JM. (2014). Pickles and ice cream! Food cravings in pregnancy: hypotheses, preliminary evidence, and directions for future research. Front Psychol.
2. Hill, P. (1990). Pickles, peptide hormones and pregnancy: A hypothesis. Medical Hypotheses,
Tags
Pickles During Pregnancy in Bengali, Nutritional value of Pickles During pregnancy in Bengali, Benefits of Eating Pickles During Pregnancy in Bengali, Side Effects of Eating Pickles During Pregnancy in Bengali, Pickle During Pregnancy in English, Pickle During Pregnancy in Hindi, Pickle During Pregnancy in Tamil, Pickle During Pregnancy in Telugu
Yes
No

Written by
Nandini Majumdar
Get baby's diet chart, and growth tips











গর্ভাবস্থার শুরুতে নিজের পেট কীভাবে পরীক্ষা করবেন

অন্নপ্রাশন

ভ্যাসেকটমি রিভার্সাল: অর্থ এবং ঝুঁকি | Vasectomy Reversal: Meaning And Risks in Bengali

১গর্ভাবস্থায় তুলসী কি নিরাপদ?

গর্ভাবস্থায় নাশপাতি: উপকারিতা, ঝুঁকি এবং নির্দেশিকা (Pear in Pregnancy: Benefits, Risks & Guidelines in Bengali)

বাড়িতে গর্ভধারণ পরীক্ষা করতে হলে যা যা জানতে হবে