


Early Pregnancy
3 November 2023 আপডেট করা হয়েছে
আপনি যদি সত্যিই গর্ভধারণের চেষ্টা করেন, তাহলে কোনো মাসে আপনার মাসিক (পিরিয়ড) না হওয়াকে গর্ভাবস্থার প্রথম লক্ষণগুলির মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গর্ভকালীন যাত্রাটি প্রতিটি মহিলার জন্য আলাদা হয়ে থাকে। প্রত্যেক মহিলার মধ্যে একই রকমের গর্ভাবস্থার উপসর্গ দেখা যায় না, কারণ তাঁদের দেহের ধরণ ভিন্ন ভিন্ন হয় বা তাঁদের কারো কারো কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকতে পারে। যে মুহুর্তে আপনি বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেন এবং আপনার মাসিক (পিরিয়ড) অনিয়মিত হয়, তখন আপনাকে অবশ্যই গাইনোকোলজিস্টের (স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ) সাথে কথা বলতে হবে। কখনো কখনো, ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে বা প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার আগে, আপনি যে গর্ভবতী হয়ে গেছেন তা বোঝার আগেই আপনি গর্ভাবস্থার কিছু প্রাথমিক লক্ষণ অনুভব করতে পারেন। আপনি গর্ভবতী কিনা তা আপনি শুধুমাত্র প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের মাধ্যমেই জানতে পারবেন। নিচে গর্ভাবস্থার কিছু প্রাথমিক লক্ষণের উল্লেখ করা হলো যা কিছু মহিলা প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার আগেই লক্ষ্য করে থাকেন:
গর্ভধারণের (কনসেপশন) পর যখন একটি নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর আস্তরণের সাথে যুক্ত হয় তখন কিছু মহিলার হালকা রক্তের দাগ বা ছোপ (স্পটিং) হতে দেখা যায়, যেটা ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং নামেও পরিচিত। এই রক্তের দাগ বা সামান্য রক্তপাত সাধারণত মাসিকের স্বাভাবিক রক্তের তুলনায় হালকা রঙের হয় এবং এটি গর্ভাবস্থার প্রথম 12 সপ্তাহের মধ্যে হয়ে থাকে। সমস্ত মহিলার এটি হয় না, কিন্তু আপনি যদি এটি লক্ষ্য করেন তবে আপনাকে অবশ্যই এই ব্যাপারে আপনার ডাক্তারকে জানাতে হবে। রক্তপাতের পাশাপাশি, কিছু কিছু মহিলার হালকা ক্র্যাম্প (খিঁচ ধরা) হয়ে থাকে যা অনেকটা মাসিকের বা পিরিয়ডের ক্র্যাম্পের মতোই হয় এবং এটিকে অনেকে মাসিকের শুরু বলেও ভুল করেন।
গর্ভধারণের পর হরমোনের অনেক পরিবর্তন ঘটে। তখন স্তনে কালশিটে দেখা যায়, স্তন ফুলে যায়, শিরা দেখা যেতে থাকে এবং স্তনকে স্পর্শ করলে খুব নরম বলে মনে হয়। স্তনবৃন্তের (আরিওলা) চারপাশের গাঢ় রঙের অংশ আরো গাঢ় হয়ে যেতে পারে।
কিছু কিছু মহিলা দিনের যে কোনো সময় প্রচন্ডভাবে মর্নিং সিকনেস (প্রাতঃকালীন অসুস্থতা) অনুভব করেন, আবার কেউ কেউ কখনোই এটি অনুভব করেন না। হরমোনের মাত্রার পরিবর্তনের ফলে গর্ভবতী মহিলার বমি বমি ভাব হয়ে থাকে এবং এটি গর্ভাবস্থার সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে একটি।
গর্ভাবস্থার প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মানবদেহ এইচসিজি (হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন) নামক একটি হরমোন তৈরি করে যা শ্রোণীর (পেলভিক) অঞ্চলে রক্তের প্রবাহকে বাড়ায়। যার ফলে আপনার কিডনিকে প্রচুর কাজ করতে হয় এবং আপনার মূত্রাশয়ের উপর চাপের সৃষ্টি করে, তাই আপনাকে বারবার প্রস্রাব করতে যেতে হয়।
গর্ভাবস্থার আপনার প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আপনার দিনরাত ঘুম পাবে। তখন আপনার শরীরের ভেতরে অনেক পরিবর্তন হতে থাকে, যার ফলে আপনি অবসাদ এবং ক্লান্তি অনুভব করবেন।
হরমোনের পরিবর্তন আপনার অন্ত্রের কার্যকারিতার গতিকে কমিয়ে দেয়। আপনার শরীর যখন প্রসবের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকে, তখন প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তা আপনার পেশীগুলিকে শিথিল করে দেয় এবং এরফলে আপনার পাচনতন্ত্র ধীর গতিতে কাজ করে।
আপনার গর্ভাবস্থার শুরুর থেকে আপনি নিজের মধ্যে যে অদ্ভুত পরিবর্তনগুলি অনুভব করবেন তার মধ্যে একটি হলো আপনার আর নিজের প্রিয় খাবারটি খেতে ইচ্ছে করবে না আর আপনার তখন কিছু নির্দিষ্ট খাবার যেমন মিষ্টি জাতীয় খাবার, টক ফল, মশলাদার খাবার ইত্যাদি খেতে ইচ্ছে করবে।
এই সময় আপনার মেজাজ বারবার পরিবর্তিত হতে পারে, যেমন কখনো আপনি বিরক্ত হতে পারেন এবং কখনো আপনার কাঁদতে ইচ্ছে করতে পারে, আবার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আপনি উচ্ছ্বসিত বোধ করতে পারেন। যদি আপনার মেজাজ প্রচন্ডভাবে পরিবর্তিত হতে থাকে তবে আপনাকে অবশ্যই একজন থেরাপিস্টের কাছে যেতে হবে, কারণ এটি আপনার হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে।
অনেক গর্ভবতী মহিলার ঘন ঘন হালকা মাথাব্যথা হয় যা রক্তের পরিমাণ এবং হরমোন বাড়ার ফলে হয়ে থাকে। গর্ভাবস্থার শুরুতে হাইপারটেনশন এবং উচ্চ রক্তচাপের (হাই ব্লাড প্রেশার) মাত্রার কারণেও তীব্র মাথাব্যথা হয়।
ক্রমাগত ওজন বাড়া এবং আপনার শরীরের কিছু পরিবর্তন হওয়া যেমন আপনার লিগামেন্টে চাপের সৃষ্টি হওয়া, একটি ভারী জরায়ু, সায়াটিকা, আপনার শারীরিক ভঙ্গিতে পরিবর্তন, এবং শরীরের ভার কেন্দ্র সরে যাওয়ার ফলে গর্ভাবস্থায় পাছায় এবং পিঠে তীব্র ব্যথা হয়।
গর্ভাবস্থায় অ্যান্ড্রোজেন হরমোন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অনেক মহিলারই এই সময় ব্রণ হয়ে থাকে। এই গর্ভাবস্থার ব্রণ অস্থায়ী হয় এবং সন্তানের জন্মের পর সেগুলো আর থাকে না।
কিছু মহিলার গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে বিভিন্ন ধরণের উপসর্গ দেখা দেয় যেমন অনিদ্রা, বিষণ্নতা, ডায়রিয়া, অম্বল বা বুক-জ্বালা, ফোলাভাব এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। আপনি গর্ভবতী হওয়ার পরে উপরে উল্লিখিত গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণগুলির কোনোটা অনুভব নাও করতে পারেন। তারপরেও, যদি আপনার কোনো মাসে মাসিক না হয় (পিরিয়ড মিস হয়) এবং উপরের লক্ষণগুলির মধ্যে কোনোটা নিজের মধ্যে দেখতে পান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই বাড়িতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হবে এবং আপনার গাইনোকোলজিস্টের (স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ) সাথে দেখা করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি আপনার গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হবে, আপনার গর্ভকালীন সম্পূর্ণ যাত্রাটি ততই ভালো হবে। এই আনন্দময় যাত্রার সময় প্রসবের আগের যত্ন (প্রিনাটাল কেয়ার) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
11 primary symptoms of pregnancy before missed period in Bengali, Early signs of pregnancy in Bengali, Symptoms of early pregnancy in Bengali

Mylo Biscuits for Pregnant Women - Sugar-free & High Protein - 250gm (50 Diskettes)
Cleanses, Exfoliates & Fights Acne | Removes Blackheads & Whiteheads
₹ 549

4.6
(97)


27852 Users bought
Yes
No

Written by
Satarupa Dey
Get baby's diet chart, and growth tips






গর্ভাবস্থায় বিপিডি কি? | What is BPD in Pregnancy in Bengali

বেবি গার্ল বেলি বনাম বেবি বয় বেলি: আপনার পেটের গঠন বা আকার কি বলতে পারে আপনার একটি ছেলে জন্ম নিতে চলেছে কিনা? | Baby Girl Belly Vs Baby Boy Belly in Bengali

গর্ভাবস্থায় পোস্ত দানা: অর্থ, উপকারিতা ও ঝুঁকিসমূহ | Poppy Seeds During Pregnancy: Meaning, Benefits & risks in Bengali

গর্ভাবস্থায় বিটরুট: উপকারিতা, ঝুঁকি এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া | Beetroot in Pregnancy: Benefits, Risks and Side Effects in Bengali

গর্ভাবস্থায় সয়াবিন: উপকারিতা, ঝুঁকি এবং টিপস্ সমূহ | Soybean in Pregnancy: Benefits, Risks, and Tips in Bengali

গর্ভাবস্থায় অ্যালিভ বীজের উপকারিতা | Aliv Seeds Benefits in Pregnancy in Bengali