
সন্তান জন্মের পর ক্লান্ত, ও ভারাক্রান্ত বোধ করা স্বাভাবিক। তবে নতুন মা শ্বাসকষ্ট, মাথা ঝিমঝিম, বা তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করলে, তিনি সম্ভবত পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় ভুগছেন। এই অবস্থা মা এবং নবজাত শিশু উভয়ের পক্ষেই বিপজ্জনক হতে পারে, তাই এ রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা করা জরুরী। এই ব্লগে, পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া, তার লক্ষণ, এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ের কারণ আলোচনা করা হবে। এর মধ্যে কোনো উপসর্গ কারোর দেখা দিলে, অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে যেতে দ্বিধা করা উচিত নয়।
পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া বোঝার জন্য, প্রসবের আগে প্রথমেই জানতে হবে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া থেকে এটি কেন আলাদা। গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পরে হতে পারে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া। উচ্চ রক্তচাপ এবং প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি দ্বারা এই রোগ চিহ্নিত করা যায়। প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া হালকা, মাঝারি, বা গুরুতর হতে পারে। হালকা প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া সাধারণত প্রসবের পরে ভালো হয়ে যায়। তবে, গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া মা ও শিশু উভয়ের জন্য সঙ্কটজনক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া প্রসব পরবর্তী সময়ে দেখা যায়। গর্ভাবস্থায় প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া হয়েছে এমন মহিলাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার লক্ষণগুলি গর্ভাবস্থায় হওয়া প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার মতোই। আক্রান্তদের রক্তচাপ বেশি হয় এবং প্রস্রাবে প্রোটিন পাওয়া যায়। পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া হলে মাথাব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টি, এবং ওপর পেটে ব্যথা হয়। চিকিৎসার অভাবে, এ থেকে পোস্টপার্টাম এক্ল্যাম্পসিয়া হতে পারে, এমন অবস্থায় প্রসবের সময় বা পরে মায়ের খিঁচুনি হয়।
পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া উচ্চ রক্তচাপের কারণে প্রসবের পরে শুরু হতে পারে। এটি সাধারণত প্রসবের প্রথম দু’ সপ্তাহের মধ্যে হয়, তবে কখনও কখনও প্রসবের পরে ছয় সপ্তাহ পর্যন্তও হতে পারে। পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জটিল না হলেও, কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর আকার নিতে পারে, যেমন স্ট্রোক বা কিডনি ফেইলিওর এমনকি পোস্টপার্টাম এক্ল্যাম্পসিয়াও হতে পারে, এক্ষেত্রে মায়ের খিঁচুনি হয়, এবং মা ও শিশু উভয়ের পক্ষে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই, কোনো অল্পবয়সি মায়ের পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া যেমন, মাথাব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টিশক্তি অথবা ওপর পেটে ব্যথার লক্ষণ দেখা গেলে, তাকে সঙ্গে সঙ্গে নিজের ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় বেশ কিছু ঝুঁকি বর্তমান। তার মধ্যে আছে:
- পূর্ববর্তী গর্ভাবস্থায় প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া বা পোস্টপার্টাম এক্ল্যাম্পসিয়ার ইতিহাস থাকা
- যমজ, ত্রয়ী, বা তার বেশি সন্তান গর্ভে ধারণ করা
- প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া বা পোস্টপার্টাম এক্ল্যাম্পসিয়ার পারিবারিক ইতিহাস থাকা
- মোটা বা অতিরিক্ত বেশি ওজন হওয়া
- উচ্চ রক্তচাপ থাকা
- ডায়াবেটিস থাকা
সুতরাং কারো ক্ষেত্রে এর মধ্যে কোনও একটি কারণও দেখা গেলে, গর্ভবতী হওয়া বা গর্ভধারণের চিন্তা করার আগে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করা জরুরী। কীভাবে বড় সমস্যা এড়ানো যায় সে বিষয়ে তারা কিছু টিপস দিতে পারেন এবং গর্ভাবস্থায় ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করে সাহায্য করতে পারেন।
পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া হওয়ার অনেক সম্ভাব্য কারণ আছে, তবে সঠিক কারণ এখনো অজানা।
সম্ভাব্য কারণগুলির মধ্যে পড়ে:
- গর্ভাবস্থায় প্লাসেন্টায় পরিবর্তন
- প্লাসেন্টায় অস্বাভাবিক রক্তনালী
- ইমিউন সিস্টেমের সমস্যা
- জিনগত কারণ
যেসব মহিলাদের প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া , উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগের ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সুতরাং, এটি পোস্টপার্টাম এক্ল্যাম্পসিয়ায় পরিণত হওয়ার আগেই দ্রুত মোকাবিলা করা দরকার।
যে সব নতুন মায়েরা কখনো এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি, তারা হয়তো খুব তাড়াতাড়ি এ বিষয়ে সচেতন হতে পারে না। সুতরাং, পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া, এবং এক্ল্যাম্পসিয়ার লক্ষণগুলি স্পষ্টভাবে বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ, উপরে যেমন বলা হয়েছে, জন্মের কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যে কোনও সময় এই রোগের সূত্রপাত হতে পারে। লক্ষণগুলির একটি বিস্তৃত তালিকা এখানে দেওয়া হয়েছে:
- উচ্চ রক্তচাপ
- হাত, পা, এবং মুখ ফোলা
- প্রস্রাবে প্রোটিনের ঘনত্ব বৃদ্ধি
- তীব্র মাথা ব্যথা
- বিবমিষা এবং বমি
- প্রস্রাব হ্রাস
- শ্বাস নিতে কষ্ট
- দ্রুত ওজন বৃদ্ধি
- দৃষ্টিশক্তির হঠাৎ, এবং লক্ষণীয় পরিবর্তন, যেমন ঝাপসা দৃষ্টি বা হালকা সংবেদনশীলতা
- পাঁজরের খাঁচার কাছে বা ওপর পেটে ব্যথা
অতএব, কারো ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলির মধ্যে কোনও একটিও দেখা গেলে, তাদের দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন।
প্রসবের পরে উচ্চ রক্তচাপ এবং প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি পরীক্ষার মাধ্যমে পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া নির্ণয় করা হয়। কারও পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া থাকলে, তাদের রক্তচাপ 140/90 mmHg -এর বেশি হবে। ডিপস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রস্রাবে বর্তমান প্রোটিন সনাক্ত করা যাবে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় নতুন মায়েদের পোস্টপার্টাম এক্ল্যাম্পসিয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। মায়ের খিঁচুনি দেখা দিলে কিছু ক্ষেত্রে ব্রেন স্ক্যানেরও প্রয়োজন হতে পারে।
সংক্ষেপে, পোস্টপার্টাম প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া গর্ভাবস্থায় ঘটতে পারে এমন একটি সম্ভাব্য বিপজ্জনক অবস্থা। চিকিৎসার অভাবে, এটি পোস্টপার্টাম এক্ল্যাম্পসিয়ায়, গুরুতর খিঁচুনিতে পরিণত হতে পারে। সৌভাগ্যক্রমে, লক্ষণগুলি উপশমে সহায়তা করতে পারে এমন চিকিৎসা উপলব্ধ এবং তার সাহায্যে মায়েরা স্বাভাবিক গর্ভধারণ করতে এবং সন্তান জন্মের পরে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। গর্ভাবস্থা সংক্রান্ত জটিলতা, তথ্য এবং টিপ্স সম্পর্কে আরও জানার জন্য, মাইলো পরিবারে আমাদের ব্লগ দেখুন।
Yes
No



















amr report ta ki thik ase?
amr report ta ki thik ase?
নয় সপ্তাহে এ কৌষটি কাঠিন হলে করণীয় কি
৯ মাসে কি বাচ্চা কম নড়াছড়া করে? জেনে থাকলে জানাবেন plz...
অবশেষে ছেলে সন্তানের মা হলাম
Your body needs extra nutrition this trimester - these can help.





This content is for informational purposes only and should not replace professional medical advice. Consult with a physician or other health care professional if you have any concerns or questions about your health. If you rely on the information provided here, you do so solely at your own risk.

Mylo wins Forbes D2C Disruptor award

Mylo wins The Economic Times Promising Brands 2022
Baby Carrier | Baby Soap | Baby Wipes | Stretch Marks Cream | Baby Cream | Baby Shampoo | Baby Massage Oil | Baby Hair Oil | Stretch Marks Oil | Baby Body Wash | Baby Powder | Baby Lotion | Diaper Rash Cream | Newborn Diapers | Teether | Baby Kajal | Baby Diapers Pants | Cloth Diapers | Laundry Detergent | Lactation Granules |