একটি সদ্যোজাতের নিয়মিত ওজন বৃদ্ধি তাদের বিকাশের একটি ভাল লক্ষণ। অনেক নতুন বাবা-মা তাদের নবজাতকের ওজন নিয়ে উদ্বেগে থাকেন এবং তাদের সন্তানের ওজন দ্রুত বাড়ানোর জন্য টিপস চান। কিন্তু বাবা-মাকে বুঝতে হবে যে প্রতিটি শিশুর খিদে আলাদা। কিছু শিশুর ওজন অন্যদের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তবে, এমন কিছু টিপস রয়েছে যা নতুন বাবা-মাকে তাদের নবজাতকের ওজন দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
টিপস দেখার আগে, বাবা-মায়ের তাদের সন্তানের আদর্শ ওজন সম্পর্কে ধারণা থাকা এবং কোন কারণগুলি এটিকে প্রভাবিত করে তা বোঝা উচিত। এই তথ্যটি থেকে অভিভাবকরা তাদের প্রত্যাশাগুলি আরও ভালভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।
নবজাতক কত বড়?
নবজাতক শিশুর ওজন 2500 গ্রাম থেকে 4000 গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। 4000 গ্রামের বেশি ওজনে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্থূল বলে মনে করা হয় এবং তাদের জন্মগত অক্ষমতা থাকতে পারে। 1500 গ্রাম এর কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই শিশুদের প্রায়ই তাদের ওজন বাড়ানোর জন্য বিশেষ ফিডিং টিউব সহ ইনকিউবেটরে রাখা হয়।
কোন বিষয়গুলি নবজাতকের ওজনকে প্রভাবিত করে?
একটি সদ্যোজাত শিশুর ওজন মায়ের খাদ্যাভ্যাস, শিশুর লিঙ্গ এবং জেনেটিক বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। নবজাতকের ওজনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন কিছু কারণের তালিকা এখানে দেওয়া হয়েছে।
- জেনেটিক্স - একটি সদ্যোজাতের ওজন এবং আকার তাদের বাবা-মায়ের জেনেটিক্স দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। যদি বাবা-মা উভয়েই লম্বা এবং সুগঠিত হয়, তবে তাদের সন্তান বড়সড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাবা-মা ছোট এবং রোগা হলে সাধারণত সন্তান কম ওজনের ছোটখাট হয়ে থাকে।
- গর্ভাবস্থায় পুষ্টি - মাকে ক্রমাগত তাজা, পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ অনেকটাই নির্ভর করে গর্ভাবস্থায় তারা কতটুকু পুষ্টি পায় তার ওপর। যেসব মায়েরা গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার খান তারা সাধারণত ভালো ওজনের সুস্থ শিশুর জন্ম দেন।
- গর্ভাবস্থায় মায়ের স্বাস্থ্যের অবস্থা - পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি গর্ভবতী মহিলাদেরও তাদের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। রক্তচাপের ওঠানামা, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা অন্যান্য অসুস্থতার মতো স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি শিশুর বিকাশ এবং জন্মের ওজনকে খারাপভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
- জন্মের ক্রম - অনেক বিশেষজ্ঞের মতে প্রথম সন্তানদের প্রায়শই তাদের ভাইবোনদের তুলনায় কম জন্ম ওজন থাকে।
- একক/একাধিক জন্ম - একটি শিশুর জন্মের ওজনকে প্রভাবিত করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল এটি একক জন্ম নাকি একাধিক জন্ম। একটি একক জন্মের শিশুর জন্ম ওজন যমজ এবং আরও বেশি সংখ্যক একসঙ্গে জন্ম নেওয়া শিশুর জন্ম ওজনের তুলনায় যথেষ্ট বেশি হয়। এর কারণ হল, একক জন্মের ক্ষেত্রে, সমস্ত পুষ্টি একটি একক শিশুর দ্বারা শোষিত হয়। কিন্তু, যদি মা যমজ বা তার বেশি শিশু ধারণ করেন, তবে খাবারটি সমস্ত শিশুর মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। এই কারণে, অধিকাংশ একাধিক জন্মগ্রহণকারী শিশুদের জন্ম ওজন একক জন্মের শিশুদের তুলনায় কম।
সদ্যোজাত শিশুর ওজন বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় কী কী?
- খিদের জন্য সংকেতগুলি লক্ষ্য করুন - যখন একটি শিশু ক্ষুধার্ত বোধ করতে শুরু করে, তখন তারা ইঙ্গিত দেবে, যেমন - হাত চোষা, ছটফট করা এবং মাথা দোলানো। আপনি এই সংকেতগুলি লক্ষ্য করলেই আপনার সন্তানের খাবার প্রস্তুত করুন। এই সময়ে খাওয়ানো হলে আপনার সন্তানকে দ্রুত ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে। শিশুকে খাওয়ানোর আগে কান্নাকাটি করার জন্য অপেক্ষা করা যুক্তিযুক্ত নয়, কারণ এতে সন্তান খুব ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে এবং বায়না করতে পারে। এছাড়াও, আপনার সন্তান যখন ক্ষুধার্ত থাকে তখন তাকে শান্ত করার চেষ্টা করবেন না, কারণ এটি খাওয়ানোর প্রতি তাদের আগ্রহ কমিয়ে দেবে।
- চাহিদা অনুযায়ী খাওয়ানো - সদ্যোজাতদের সাধারণত দিনে প্রতি 2 থেকে 3 ঘন্টায় একবার খাওয়ানো হয়। যেহেতু প্রতিটি শিশু আলাদা, তাই তাদের দিনে কতটা দুধ খাওয়াতে হবে তা অনুমান করা অসম্ভব। তাই যে বাবা-মা তাদের শিশুর দ্রুত ওজন বাড়ানোর জন্য় চিন্তিত তাদের ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী শিশুকে খাওয়ানো একটি ভালো বিকল্প। চাহিদা অনুযায়ী খাওয়ানোর অর্থ হল খাওয়ানোর সাধারণ হার নির্বিশেষে যখনই শিশু ক্ষুধার্ত থাকে তখনই শিশুকে ফর্মুলা/বুকের দুধ খাওয়ানো।
- বুকের দুধের উৎপাদন পর্যবেক্ষণ করা - কিছু মায়েরা জানতে চান কিভাবে সদ্যোজাত সন্তানের ওজন শুধু বুকের দুধ দিয়ে বাড়ানো যায়। বুকের দুধ দিয়ে নবজাতকের ওজন বাড়ানোর একমাত্র উপায় হল এর স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা। মায়েদের উচিত তাদের বুকের দুধের উৎপাদন পর্যবেক্ষণ করা এবং স্তন্যপান করানোর জন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।
- ঘুমন্ত শিশুদের সঙ্গে আচরণ - কিছু সদ্যোজাতকে ঘুমন্ত শিশু বলা হয় কারণ তারা খাওয়ার জন্য নিয়মিত জেগে ওঠে না। ঘুমন্ত শিশুদের বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানের ওজন বৃদ্ধি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন থাকেন। ঘুমন্ত শিশুদের বাবা-মায়ের তাদের খাওয়ানোর সময়সূচী সাবধানে পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং খাওয়ানোর জন্য তাদের নিয়মিত জাগানো উচিত। এটি নবজাতকের স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে।