
কখনও কখনও, একজন গর্ভবতী মহিলা যোনি থেকে রক্তপাত অনুভব করতে পারেন। এটি সাধারণত 25% প্রেগন্যান্ট মহিলাদের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। এছাড়াও, গর্ভাবস্থায় যে-সমস্ত মহিলাদের রক্তক্ষরণ হয়, তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক পর্যন্ত গর্ভপাতের শিকার হয়। প্রেগন্যান্সির পরবর্তী পর্যায়ে রক্তপাত একটি গুরুতর উদ্বেগের ইঙ্গিত। গর্ভাবস্থায় রক্তপাত হওয়ার বিভিন্ন কারণ এবং পর্যায় রয়েছে।
একজন প্রেগন্যান্ট মহিলার জানা দরকার যে গর্ভাবস্থায় কতটা রক্তপাত হওয়া স্বাভাবিক এবং তার জন্য কখন আপৎকালীন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এছাড়াও, তাকে অবশ্যই গর্ভাবস্থায় রক্তপাত বন্ধ করার উপায় এবং চিকিৎসাগুলিও জানতে হবে। নিবন্ধটি গর্ভাবস্থায় রক্তপাতের সবচেয়ে সাধারণ উদাহরণগুলি কভার করবে।
গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণের কয়েকটি কারণ আছে। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য রক্তপাত বেশ সাধারণ বিষয়, বিশেষ করে প্রেগন্যান্সির প্রথম 3 মাসের আগে। তবে, গর্ভাবস্থায় যোনি থেকে রক্তপাত কোনও জটিলতা বা অন্তর্নিহিত অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। যদি কোনও মহিলা গর্ভবতী হন এবং তার রক্তপাত হয় তবে তাকে অবিলম্বে গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। এটি তাদের গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণের কারণ নির্ণয় করতে এবং গুরুতর উদ্বেগগুলি প্রতিরোধ করার সুযোগ দেয়। অনেক গর্ভবতী মহিলারা রক্তপাতের অভিজ্ঞতা নিয়েও সুস্থ শিশুর জন্ম দেয়।
গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণের কারণগুলি জানার জন্য, একজন ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞ আল্ট্রাসাউন্ড টেস্ট করানোর পরামর্শ দিতে পারেন।
একজন প্রেগন্যান্ট মহিলার সাধারণত মাঝে মাঝে রক্তক্ষরণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় প্রাথমিক পর্যায়ে রক্তপাতের কিছু কারণ হল:
● ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং
যদি জরায়ুর প্রাচীরের মধ্যে একটি নিষিক্ত ডিম্বাণুর ইমপ্লান্টেশন ঘটে তবে তা রক্তপাতের কারণ হতে পারে। প্রেগন্যান্সির প্রথম দিকে এটি একটি নিয়মিত ঘটনা।
● মোলার প্রেগন্যান্সি
যখন জরায়ুতে একটি নিষিক্ত ডিম্বাণু ইমপ্লান্ট হয় তখন এর ফলে ভ্রূণের পরিবর্তে একটি টিউমার তৈরি হয়, সেই সময় রক্তপাতও হতে পারে। প্রেগন্যান্সিতে এ ধরনের ঘটনা বিরল।
● এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি
এটি জরায়ুর বাইরে (ফ্যালোপিয়ান টিউবগুলিতে) ঘটে এবং এটি একটি গুরুতর উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
● সাবকোরিওনিক হেমাটোমা
জরায়ুর অভ্যন্তরে ভ্রূণের চারপাশের মেমব্রেন রক্তপাত ঘটাতে পারে। সাবকোরিওনিক হেমাটোমাস সময়ের সাথে সাথে নিরাময় হয়।
● সার্ভিকাল পলিপস
সার্ভিক্সের নন-ক্যান্সারাস বৃদ্ধির ফলে উচ্চতর ইস্ট্রোজেনের মাত্রা গর্ভাবস্থায় রক্তপাতের কারণ হতে পারে।
● গর্ভপাত
কখনও কখনও, প্রেগন্যান্সি 20 সপ্তাহের আগেও শেষ হয়ে যেতে পারে। সাধারণত, এর লক্ষণগুলি হালকা রক্তপাতের সাথে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তা গুরুতর ক্র্যাম্পিংয়ের সাথে ভারী রক্তপাতের দিকে যায়। অবশেষে গর্ভপাত হতে পারে যা মা এবং পরিবারের জন্য মানসিকভাবে ভয়ানক।
এই কারণগুলির জন্য দ্বিতীয় বা তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে রক্তপাত হতে পারে:
● প্ল্যাসেন্টা প্রিভিয়া একটি বিরল মেডিক্যাল অবস্থাকে বোঝায়। এটি তখন ঘটে যখন প্ল্যাসেন্টা সার্ভিক্সের কিছু অংশকে বা সম্পূর্ণরূপে আচ্ছাদিত করে। প্রেগন্যান্সির সময়কাল 20 সপ্তাহের বেশি সময় অতিক্রম করার পরে এটি ঘটতে পারে।
● যখন প্ল্যাসেন্টা, জরায়ুর প্রাচীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখন এটি প্ল্যাসেন্টা অ্যাব্রাপশন নামে একটি অবস্থায় পরিণত হয়। এই ধরনের ঘটনাগুলি বেশ বিরল এবং ভ্রূণ ও মায়ের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
● প্রিটার্ম লেবার হল প্রেগন্যান্সির 37 সপ্তাহের আগে প্রসব যন্ত্রণায় যাওয়া।
● ইনকম্পিটেন্ট সার্ভিক্স: সময়ের আগেই সার্ভিক্স প্রসারিত হলে, অকাল প্রসব হতে পারে।
● গর্ভপাত: 20 তম সপ্তাহের পরে প্রেগন্যান্সির ক্ষতি।
গর্ভাবস্থায় রক্তপাতের কিছু অন্যান্য কারণ নীচে দেওয়া হল:
● যৌন মিলন: যৌন মিলনের পরে কিছু ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এর কারণ হল গর্ভাবস্থায় সার্ভিক্স অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়।
● পেলভিক পরীক্ষা বা আল্ট্রাসাউন্ড: কখনও কখনও, রক্তপাত একটি পেলভিক পরীক্ষার পরে বা একটি সার্ভিক্স ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ডের সময়ও ঘটতে পারে।
● সংক্রমণ: ক্ল্যামিডিয়া, গনোরিয়া, STD, বা মূত্রনালীর সংক্রমণের মতো কিছু সংক্রমণ গর্ভাবস্থায় রক্তপাতের প্রধান কারণ হতে পারে।
রক্তপাত, যাকে স্পটিং হিসাবেও উল্লেখ করা হয়, গর্ভাবস্থায় এটি সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক নয়। তবে, আমাদের অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে, বিশেষত যখন রক্তপাত বা স্পটিংয়ের পিছনে কারণ সম্পর্কে আমরা অনিশ্চিত।
অবিলম্বে রক্তপাত বন্ধ করার কোনও সমাধান নেই। এটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে, বা কখনও কখনও, কোনও প্রেগন্যান্ট মহিলা সময়ের সাথে সাথে বেশি রক্তপাতও অনুভব করতে পারেন।
গর্ভাবস্থায় রক্তপাত বন্ধ করার উপায়গুলির মধ্যে অন্যতম সহজ হল পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া। তারপরেও যদি রক্তপাত বন্ধ না হয় তবে অবশ্যই মহিলাকে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এছাড়াও, রোগ নির্ণয়ের পরে, একজন ডাক্তার বা একজন বিশেষজ্ঞ এগুলির পরামর্শ দিতে পারেন:
● কাজ থেকে সময় বের করা
● সম্পূর্ণ বিশ্রাম, বেড রেস্ট
● যৌন মিলন না করা
● ডুস না দেওয়া
● ট্যাম্পন ব্যবহার না করা
● স্বাস্থ্যকর জীবনধারা যাপন
● প্রচুর পরিমাণে জল পান করা
● ভাল মতো ঘুম
বেশি রক্তক্ষরণের ক্ষেত্রে, মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে বা সার্জারি করতে হতে পারে।
প্রেগন্যান্সির দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে রক্তপাত বন্ধ করার কিছু পরীক্ষিত উপায় রয়েছে:
● মেথোট্রেক্সেট নামক একটি ড্রাগ দিয়ে চিকিৎসা করা যেতে পারে।
● মহিলার অবস্থা মেথোট্রেক্সেট চিকিৎসা করার জন্য উপযুক্ত না হলে, সার্জারি করা যেতে পারে।
● ডাইলেশন এবং কিউরেটেজ (D&C) হল একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি যা জরায়ুর ভ্রূণের টিস্যুকে অপসারণ করে। এটি রক্তক্ষরণ বা সংক্রমণ সহ অতিরিক্ত জটিলতাগুলিকেও প্রতিরোধ করে।
গর্ভাবস্থায় রক্তপাত বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু কখনও কখনও এটি শিশু বা মায়ের জন্য সত্যিকারের বিপদ নাও হতে পারে। তবে, এর কারণ খুঁজে বের করার জন্য সঙ্গী বা পরিবারের অবিলম্বে একজন বিশেষজ্ঞ বা ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণের কারণ জানা, মা এবং ভ্রূণ সুস্থ আছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।
Yes
No














ধন্যবাদ
Your body needs extra nutrition this trimester - these can help.





This content is for informational purposes only and should not replace professional medical advice. Consult with a physician or other health care professional if you have any concerns or questions about your health. If you rely on the information provided here, you do so solely at your own risk.

Mylo wins Forbes D2C Disruptor award

Mylo wins The Economic Times Promising Brands 2022
Baby Carrier | Baby Soap | Baby Wipes | Stretch Marks Cream | Baby Cream | Baby Shampoo | Baby Massage Oil | Baby Hair Oil | Stretch Marks Oil | Baby Body Wash | Baby Powder | Baby Lotion | Diaper Rash Cream | Newborn Diapers | Teether | Baby Kajal | Baby Diapers Pants | Cloth Diapers | Laundry Detergent | Lactation Granules |