


Ectopic Pregnancy
20 December 2025 আপডেট করা হয়েছে
গর্ভাবস্থার সময়টি নানা ওঠা-পড়ায় ভরা এবং এটি জটিলতা মুক্ত নয়। একটি নিষিক্ত ডিম্বাণু যখন জরায়ুর বদলে অন্য কোথাও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফ্যালোপিয়ান নালীতে প্রতিস্থাপিত হয়ে যায় তখন তাকে এক্টোপিক প্রেগনেন্সি বলে। এক্টোপিক প্রেগনেন্সির প্রভাব গুরুতর হয় এবং এর ফলে উল্লেখযোগ্য হারে মায়ের অসুস্থতা ও মাতৃ মৃত্যু এবং গর্ভপাত দেখা যায়। প্রায় 96% এক্টোপিক প্রেগনেন্সিই ফ্যালোপিয়ান নালীতে দেখা যায়, 2% তার কাছাকাছি, এবং বাকি 2% সার্ভিক্স, পেট বা ওভারিতে হয়। এক্টোপিক প্রেগনেন্সির লক্ষণগুলি কখন থেকে দেখা যাবে তা বুঝে গর্ভাবস্থার প্রাথমিক অবস্থাতেই সেগুলি সনাক্ত করতে পারলে মাতৃ মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়।
এক্টোপিক প্রেগনেন্সির ক্ষেত্রে ফ্যালোপিয়ান নালীর ছিঁড়ে যাওয়া প্রথম ত্রৈমাসিকে মাতৃ মৃত্যুর একটি বিশিষ্ট কারণ এবং এটি 10 থেকে 15% মাতৃ মৃত্যুর জন্য দায়ী। গর্ভাবস্থার প্রাথমিক অবস্থায় এক্টোপিক প্রেগনেন্সি নির্ধারণ করা কঠিন, কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এটি এখন সম্ভব। এক্টোপিক প্রেগনেন্সির লক্ষণগুলি কখন থেকে শুরু হয়, গর্ভাবস্থা এক্টোপিক কি না তা নিশ্চিত করার জন্যে পরীক্ষা করা জরুরি। গর্ভাবস্থার প্রাথমিক অবস্থায় এক্টোপিক প্রেগনেন্সি নির্ধারণ করার জন্যে একটি আধুনিক প্রযুক্তি হল সিরাম বিটা সাবইউনিট হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিনের মাত্রা নির্ধারণ করা।
গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে এক্টোপিক প্রেগনেন্সি নির্ধারণ করা যায়, গর্ভাবস্থার 4 থেকে 12 সপ্তাহের, আন্দাজ নিশিক্তিকরণের দুই থেকে দশ সপ্তাহের মধ্যে এর লক্ষণগুলি দেখা যায়। যদিও এক্টোপিক নির্ধারণ করা সহজ নয় কারণ এর প্রাথমিক লক্ষণগুলি অনেক ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার শুরু মতই, যেমন স্তনের নরম হয়ে যাওয়া, বমি ভাব, খিদে কমে যাওয়া ইত্যাদি।
আমরা জানি এক্টোপিক প্রেগনেন্সির লক্ষণগুলি কখন থেকে শুরু হয়, তবে লক্ষণগুলি স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার না এক্টোপিক প্রেগনেন্সির তা প্রথমেই সনাক্ত করা সহজ নয়। লক্ষণগুলি সাধারণত অ্যামিনোরিয়ার সাত সপ্তাহ পরে দেখা যায় এবং এগুলি নির্ধারণ করা কঠিন। এক্টোপিক প্রেগনেন্সির কিছু লক্ষণ ও উপসর্গ এখানে দেওয়া হল:
এই অবস্থাকে গর্ভপাত, ওভারিতে দুর্ঘটনা ও পেলভিসের ইনফ্লেম্যাটরি রোগসমূহ-এর সাথে গুলিয়ে ফেলা না হলে এটি নির্ধারণ করা কঠিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পেটের এক পাশে তীক্ষ্ণ ব্যথা দেখা যায়। এই অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ ও পেল্ভিসের অত্যাধিক ব্যথা শুরু হওয়ার সাথে সাথে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা ও তাকে দেখানো অত্যন্ত প্রয়োজনজেম
অবশ্য যদি ফ্যালোপিয়ান নালীটি ছিঁড়ে যায় তবে খুব সাংঘাতিক লক্ষণ দেখা যাবে। যদি তৎক্ষণাৎ লক্ষ্য না করা হয় তবে এর ফলে মায়ের মৃত্যু ও ঘটতে পারে। ফ্যালোপিয়ান নালী ফেটে গেলে তাতে জীবনের ঝুঁকি হয় এবং এর ফলে শরীরের ভিতরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এক্টোপিক প্রেগনেন্সি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ধীরে-ধীরে ফ্যালোপিয়ান নালী ফেটে যায় ও কিছু লক্ষণ দেখা যায় যেমন :
কুমার এবং গুপ্তার (2015) লেখা নিবন্ধ অনুযায়ীপ্রজননের প্রযুক্তিগুলির সাথে যুক্ত ক্ল্যামাইডিয়া সংক্রমণ এবং ধূমপান এক্টোপিক প্রেগনেন্সি হওয়ার ঝুঁকিগুলি বাড়িয়ে দিয়েছে। গর্ভধারণে বিফলতা ও এক্টোপিক প্রেগনেন্সির প্রধান ঝুঁকির বিষয় হল ইন্ট্রাইউটেরাইন ডিভাইস ফেলিওর (আইইউডি)। এর কারণ হল আইইউডির সাহায্যে করা গর্ভাবস্থা ইন্ট্রাইউটেরাইনের থেকে বেশি এক্টোপিক হয়ে থাকে। এক্টোপিক প্রেগনেন্সির সাথে যুক্ত কিছু ঝুঁকির বিষয়গুলি দেওয়া হল :
এক্টোপিক প্রেগনেন্সি খুব গুরুতর না হয়ে গেলে এর লক্ষণগুলি সনাক্ত করা সহজ নয়। তবে আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড ও প্রযুক্তিগুলি প্রথম ত্রৈমাসিকে এক্টোপিক প্রেগনেন্সি সনাক্ত করতে সাহায্য করে:
সিরাম বা মুত্রে বিটা-হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিনের ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে গর্ভাবস্থা সুনিশ্চিত করা হয়। যদিও এটি এক্টোপিক প্রেগনেন্সি নির্ধারণ করার নির্দিষ্ট পরীক্ষা নয়, বিটা-এইচসিজির কম ঘনত্ব প্রায়ই এক্টোপিক প্রেগনেন্সি নির্দেশ করে।
এই আধুনিক প্রযুক্তির আল্ট্রাসাউন্ডে ডাক্তার তলপেটের অংশটিও দেখতে পান যা এম্ব্রায়োর অবস্থান খুঁজে পেতে সাহায্য করে। পেল্ভিক আল্ট্রাসাউন্ডে ভিতরের অঙ্গগুলির ছবি তৈরি করার জন্যে হাই-ফ্রিকোয়েন্সির সাউন্ড ওয়েভ ব্যবহার করা হয় যা ডাক্তারকে যে-কোনো সমস্যা সনাক্ত করতে সাহায্য করে। এটি জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান নালি, ওভারি, যোনি ইত্যাদি অঙ্গগুলির ছবি তৈরি করে যার ফলে এম্ব্রায়োর সঠিক অবস্থান বোঝা যায়।
মাতৃ মৃত্যুর একটি বড় কারণ হল এক্টোপিক প্রেগনেন্সি, বিশেষ করে যখন এটি ধরা পরে না ও নালিকা ছিঁড়ে যায়। প্রাথমিক লক্ষণগুলি বুঝে ত্রৈমাসিকে একটি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই হল যে-কোনো জীবনের ঝুঁকির অবস্থাগুলি এড়ানোর সহজ উপায়। গর্ভাবস্থার থেকে সপ্তাহের মধ্যে যেহেতু লক্ষণগুলি দেখা দেয়, তাই প্রথম ত্রৈমাসিকেই কোনো লক্ষণ, ব্যথা ও অস্বস্তি দেখা দিলে তা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি।
Yes
No

Written by
Parna Chakraborty
Get baby's diet chart, and growth tips











কেপুট সাক্সিডেনিয়াম: কারণ, ঝুঁকি এবং চিকিৎসা(Caput Succedaneum: Causes, Risks & Treatment in Bengali)

প্রতিবার খাওয়ানোর পর নবজাতকের মলত্যাগ করা কি স্বাভাবিক (Potty after every feeding in Bengali)?

মশারা বাচ্চাদের দিকেই বেশি আকর্ষিত হয় কেন?
লো লাইং প্লাসেন্টা সম্পর্কে একটি নির্দেশনা: উপসর্গ এবং চিকিৎসা

প্লাসেন্টা: প্লাসেন্টা কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে(Placenta: What Is Placenta And How It Works in Bengali)

সেরা 10টি DIY মেকআপ হ্যাক